দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে একদিকে যখন কানাডার ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাস, অন্যদিকে তখন নেমে আসে গভীর উদ্বেগ আর স্তব্ধতা। সব মিলিয়ে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচটি পরিণত হয় আনন্দ ও বেদনার এক মিশ্রণে। ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতলেও ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের ভয়াবহ ইনজুরি।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো বল কেড়ে নেয়ার চেষ্টায় পেছন থেকে শক্ত ট্যাকল করেন কোনেকে। সংঘর্ষের পরপরই তিনি মাঠে লুটিয়ে পড়েন এবং স্পষ্টভাবে তার বাঁ পায়ের নিচের অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর স্ট্রেচারে করে তাকে দ্রুত বাইরে নেয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কানাডার কোচ জেসে মার্চ পর্যন্ত আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার পর ভিএআর পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রেফারি আসিম মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। শুরুতে তিনি হলুদ কার্ড পেলেও পরে গুরুতর ফাউলের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে এবং মাঠের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তখন পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কানাডার হাতে। প্রথমার্ধেই তারা ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। ১৬ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কাইল লারিন, এরপর জোনাথন ডেভিডের জোড়া গোল (একটি ২৯ মিনিটে এবং অন্যটি প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে) ম্যাচকে একতরফা করে তোলে।
প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় কাতার। ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে ফাউল করে কাতারের এক ডিফেন্ডার লাল কার্ড দেখলে তারা ১০ জনে পরিণত হয়। এরপর ৫২ মিনিটে মাদিবোর লাল কার্ডে কাতার নেমে যায় ৯ জনে, যা ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে দেয়।
কোনের চোটের পর বদলি হিসেবে নামেন নাথান সালিবা। মাঠে নেমেই তিনি ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করেন এবং গোল উদযাপনের সময় আহত সতীর্থের জার্সি উঁচিয়ে ধরে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানান।
এরপর ম্যাচ পুরোপুরি একপেশে হয়ে যায়। ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাই আত্মঘাতী গোল করলে ব্যবধান আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড, যা কাতারের জন্য শেষ আঘাত হয়ে আসে।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ইতিহাসেও নাম লেখান ডেভিড। দীর্ঘ ৬০ বছর পর কোনো স্বাগতিক দেশের খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার বিরল কীর্তি গড়েন তিনি। এর আগে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট এই অর্জন করেছিলেন। সেই দীর্ঘ সময় পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে স্বাগতিক দর্শকদের সামনে একই কীর্তি দেখালেন ডেভিড।
চলতি বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক, এর আগে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিও একটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৫৩ জন খেলোয়াড় ৫৬ বার হ্যাটট্রিক করেছেন যেখানে এবার নতুন করে নাম লিখিয়েছেন কানাডার এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে কানাডার স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-০, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম বড় জয় হিসেবে নথিভুক্ত হয়। একই সঙ্গে তারা টুর্নামেন্টের বি গ্রুপে শীর্ষেও উঠে আসে, সমান পয়েন্টে থাকা সুইজারল্যান্ডকে গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলে।
অন্যদিকে কাতারের জন্য ম্যাচটি হয়ে ওঠে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। একই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল ও দুটি লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ে তারা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল ঘটনা।।
জয়ের আনন্দে ভেসে গেলেও কানাডা শিবিরে তাই ছিল এক ধরনের নীরবতা। অন্যদিকে কাতার শিবিরে হতাশা ও অনুশোচনার ভারী পরিবেশ। মাঠের ফলাফলের চেয়ে এখন বেশি আলোচনায় একজন তরুণ মিডফিল্ডারের ভবিষ্যৎ, যার ভাগ্য ঝুলে আছে হাসপাতালের বিছানায়।
কে